ইশান্ত শর্মা
সারসংক্ষেপ
ইশান্ত শর্মা
ভারতীয় ক্রিকেটের পরবর্তী বড় তারকা হিসেবে অভিহিত ইশান্ত শর্মা আলোচনায় আসেন ২০০৮ সালে ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফরে পার্থ টেস্টে রিকি পন্টিংকে স্বপ্নের মতো এক স্পেল করে। দিল্লির ইশান্তের ডাকনাম লম্বু (অর্থাৎ লম্বা মানুষ), যা তাঁর রোগা-লম্বা গড়নের দিকে ইঙ্গিত করে। ১৯৩ সেন্টিমিটার উচ্চতার ইশান্ত ১৪ বছর বয়সে গুরুত্বের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন, আর শিগগিরই ১৮ বছর বয়সে দিল্লির হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয় তাঁর। মে ২০০৭-এ ভারতের বাংলাদেশ সফরে প্রথমবার ভারতের দলে নির্বাচিত হন তিনি, একই সিরিজে টেস্ট অভিষেকও হয়। বড় সুযোগ আসে ডিসেম্বর ২০০৭-এ, যখন চিন্নাস্বামীর নিষ্প্রাণ উইকেটে পাকিস্তানি দলকে ভেঙে দিয়ে ৫/১৪০ বোলিং করেন তিনি। সেই বোলিং তাঁকে ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে জায়গা এনে দেয়, আর তারপর এই লম্বা তরুণকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি।
ইশান্তের উঁচু হাতের অ্যাকশন চমৎকার, ধারাবাহিকভাবে ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন, যা ২০০৮ সালের সেই সফরে অজিদের অবিরাম ভুগিয়েছিল। অজি অধিনায়ক পন্টিং ছিলেন ইশান্তের প্রিয় শিকার, সাত টেস্টে তাঁকে ছয়বার আউট করেন তিনি। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ অ্যাডিলেড ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘণ্টায় ১৫২.৬ কিলোমিটার (ঘণ্টায় ৯৪.৮ মাইল) গতিতে বল করে কোনো ভারতীয়র করা দ্রুততম বলের কৃতিত্বও গড়েন ইশান্ত। এর মধ্য দিয়ে সতীর্থ আশিস নেহরার ঘণ্টায় ১৪৯.৭ কিলোমিটার গতির বলকে ছাড়িয়ে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করা প্রথম ভারতীয়ও হন তিনি।
পরের সিবি সিরিজে ১৪ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়াসহ নানা কীর্তির পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইশান্তের আগমন পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে যায়। একই রকম রোগা গড়ন আর উঁচু হাতের অ্যাকশনের কারণে প্রায়ই জাভাগাল শ্রীনাথের সঙ্গে তুলনা করা হতো ইশান্তকে, আলো ছড়িয়ে যান তিনি, আর আইপিএলের প্রথম নিলামে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান নিজের ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতার জন্য বিপুল ৯৫০,০০০ ডলারে তাঁকে কিনে নেন — যা তাঁকে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের খেলোয়াড়দের একজন করে তোলে, আর মাত্র ২০ বছর বয়সেই তাঁকে বড়দের কাতারে তুলে দেয়।
সেই বছরের শেষ দিকে চার টেস্টের সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ানরা ভারতে এলে জহির খানের সঙ্গে মিলে রিভার্স সুইংয়ের কৌশল আয়ত্ত করে দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগান ইশান্ত, হতবাক করে দেন তাদের। উইকেট থেকে ও বাতাসে দুই জায়গাতেই উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট পান তিনি, কয়েকটি নিষ্প্রাণ উইকেটে দুর্দান্ত কিছু ফাস্ট বোলিং স্পেলে নিজের সুনাম আরও বাড়ান। ১৫ উইকেট নিয়ে ভারতকে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিততে সাহায্য করে সিরিজসেরা হন তিনি।
২০০৯ সাল দিল্লির এই তরুণের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের খামখেয়ালিপনার স্বাদ পান তিনি। সব কিছু খারাপ হতে শুরু করে আইপিএলের দ্বিতীয় আসরে, যখন মাঠের চারদিকে মার খেয়ে নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন তিনি। তাঁর পারফরম্যান্সের পতনের সঙ্গে তাঁর দল কলকাতারও মৌসুম কাটে বিভীষিকাময়, শেষ হয় তলানিতে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অধোগতি চলতে থাকে, আর অক্টোবর ২০০৯-এ ভারত-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজের মাঝপথে বল হাতে আরেকটি হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দল থেকে বাদ পড়লে চক্র পূর্ণ হয়।
২০১২ সালে গোড়ালির অস্ত্রোপচার হয় ইশান্তের, পরের কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকেন তিনি। একের পর এক বাজে পারফরম্যান্সের পর নির্বাচকেরা ইশান্তকে টেস্ট বিশেষজ্ঞ হিসেবে দেখতে শুরু করেন। তবে টেস্টেও তাঁর পারফরম্যান্স কখনো ভালো হয়নি, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় টেস্টে খুবই বাজে খেলেন তিনি, আর অস্ট্রেলিয়ার ভারত সফরেও আবার তাই, যেখানে আট টেস্টে নেন মাত্র ১৬ উইকেট।
২০১৩ সালটা ইশান্তের ভালো কাটেনি। টেস্টে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের পর আইপিএলে মার খান তিনি। হায়দরাবাদের হয়ে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে চার ওভারের স্পেলে দেন ৬৬ রান — সেই সময় আইপিএল ইতিহাসে কোনো বোলারের সবচেয়ে বেশি রান। অক্টোবর/নভেম্বর ২০১৩-তে অস্ট্রেলিয়ার ভারত সফরে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৩০ রান দিয়ে কোনো ভারতীয় বোলারের সবচেয়ে খরুচে ওভারের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন ইশান্ত। ফলে পরের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট ও ওয়ানডে দুই দল থেকেই বাদ পড়েন তিনি। তবে ডিসেম্বর ২০১৩-তে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দুই দলেই নাম আসে ইশান্তের।
তবে টেস্ট দলে ফেরার পর থেকে খুব ভালো খেলেন ইশান্ত। ওয়ানডে ফরম্যাটে অবশ্য নিউজিল্যান্ডে খরুচে ছিলেন, ফলে ২০১৪ এশিয়া কাপের দল থেকে আবার বাদ পড়েন। ২০১৪ আসরের আইপিএল নিলামে ইশান্তকে আবার কিনে নেয় হায়দরাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজি, যাদের হয়ে ২০১৩ সালেও খেলেছিলেন তিনি।
২০১৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে তিনটি টেস্ট খেলেন ইশান্ত, লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭/৭৪ বোলিংয়ে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সে জেতেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। তাঁর ক্যারিয়ারসেরা এই পারফরম্যান্স এমএস ধোনিকে বিদেশের মাটিতে বিরল টেস্ট জয় এনে দেয়, 'ক্রিকেটের ঘর'-এ ইতিহাস গড়ে ভারত। পরের ওয়ানডে সিরিজে খেলেননি ইশান্ত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও তাঁকে বেছে নেওয়া হয়নি। তবে দারুণভাবে ওয়ানডেতে ফেরেন তিনি, কটকে তৃতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪/৩৪ নিয়ে করেন ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। ২০১৪-১৫ বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে তিনটি টেস্টে ভারতীয় আক্রমণের নেতৃত্ব দেন ইশান্ত, তারপর চোটে শেষ টেস্ট থেকে ছিটকে যান। উচ্চতা আর বাড়তি বাউন্স তৈরির সামর্থ্যের কথা মাথায় রেখে ২০১৫ বিশ্বকাপের দলে তাঁকে রাখেন নির্বাচকেরা। তবে হাঁটুর চোট থেকে সেরে উঠতে না পারায় বড় আসর থেকে ছিটকে যান ইশান্ত। দলে ইশান্তের জায়গা নেন মোহিত শর্মা।
২০১৫ সালের শ্রীলঙ্কা সফর ছিল বড় মোড় ঘোরানো মুহূর্ত, বিশেষ করে কলম্বোয় নির্ধারণী টেস্টে তাঁর আট উইকেট — যা ম্যাচ ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। ঘরের মাঠে তাঁর পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো হয়নি, এরপর চোট আর বিয়ের কারণে নেওয়া বিরতিতে ২০১৬ সালের ঘরোয়া মৌসুমের বেশির ভাগই খেলতে পারেননি তিনি।
২০১৬ সাল থেকে ভারতীয় ফাস্ট বোলারদের ক্রমতালিকায় স্পষ্টতই নিচে নেমে যান ইশান্ত। মোহাম্মদ শামির ফিটনেস ফিরে পাওয়া আর উমেশ যাদবের পুনরুত্থানে মৌসুমের বেশির ভাগ সময় দিল্লির এই লম্বা পেসারকে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়। ২০১৬-১৭ মৌসুমে ভারতের ১৩ টেস্টের দীর্ঘ ঘরোয়া মৌসুমে কয়েকটি টেস্টে নিজের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পান ইশান্ত, তবে তাঁর বোলিং ধরনের প্রতি সাড়া না দেওয়া উইকেটে কোনোমতে মোটামুটি বোলিং করতে পারেন। পরের বছরগুলোতে ভারতীয় টেস্ট দলে নিজের জায়গা ধরে রাখতে পেরেছিলেন ইশান্ত। ২০১৮ সালে ভারতের ইংল্যান্ড সফরে চতুর্থ ম্যাচে ২৫০তম টেস্ট উইকেট নেন তিনি। ফেব্রুয়ারি ২০২১-এ ১০০তম টেস্ট খেলে অভিজাত খেলোয়াড়দের তালিকায় যুক্ত হন ইশান্ত। ভারতের স্পিনারদের দাপটের সেই ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল সাদামাটা। তবে এরপর মোহাম্মদ সিরাজের মতো তরুণ পেসারদের উত্থান আর বিরাট কোহলির টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার ফলে নেতৃত্বে পরিবর্তনের কারণে টেস্ট দল থেকে বিদায় নিতে হয় ইশান্তকে।
এই জীবনী এআই দিয়ে ইংরেজি থেকে অনুবাদ করা হয়েছে। ইংরেজিতে পড়ুন
সাম্প্রতিক ব্যাটিং
| স্কোর | প্রতিপক্ষ | ফরম্যাট | তারিখ |
|---|---|---|---|
| ব্যাট করেননি | সানরাইজার্স হায়দরাবাদ | টি-টোয়েন্টি | ০২ মে ২৫ |
| ব্যাট করেননি | রাজস্থান রয়্যালস | টি-টোয়েন্টি | ২৮ এপ্রিল ২৫ |
| ব্যাট করেননি | কলকাতা নাইট রাইডার্স | টি-টোয়েন্টি | ২১ এপ্রিল ২৫ |
| ব্যাট করেননি | দিল্লি ক্যাপিটালস | টি-টোয়েন্টি | ১৯ এপ্রিল ২৫ |
| ব্যাট করেননি | সানরাইজার্স হায়দরাবাদ | টি-টোয়েন্টি | ০৬ এপ্রিল ২৫ |
সাম্প্রতিক বোলিং
পরিসংখ্যান
ফরম্যাট অনুযায়ী ক্যারিয়ার
আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ফরম্যাটফ্র্যাঞ্চাইজি ও টি-টোয়েন্টি লিগ
ক্লাব প্রতিযোগিতাⓘ ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানে আমরা যেসব ফরম্যাট রাখি (টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি, প্রথম শ্রেণি, লিস্ট এ) আর ওপরে দেখানো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ধরা হয়েছে।
সম্পূর্ণ পরিসংখ্যান
ব্যাটিং
| Test | ODI | T20 | IPL | |
|---|---|---|---|---|
| Matches | 105 | 80 | 14 | 117 |
| Innings | 142 | 28 | 3 | 28 |
| Runs | 785 | 72 | 8 | 57 |
| Balls | 2568 | 203 | 9 | 69 |
| Highest | 57 | 13 | 5 | 10 |
| Average | 8.26 | 4.8 | 8 | 9.5 |
| SR | 30.57 | 35.47 | 88.89 | 82.61 |
| Not Out | 47 | 13 | 2 | 22 |
| Fours | 88 | 6 | 1 | 4 |
| Sixes | 1 | 0 | 0 | 2 |
| Ducks | 34 | 5 | 1 | 1 |
| 50s | 1 | 0 | 0 | 0 |
| 100s | 0 | 0 | 0 | 0 |
| 200s | 0 | 0 | 0 | 0 |
| 300s | 0 | 0 | 0 | 0 |
| 400s | 0 | 0 | 0 | 0 |
বোলিং
| Test | ODI | T20 | IPL | |
|---|---|---|---|---|
| Matches | 105 | 80 | 14 | 117 |
| Innings | 188 | 78 | 14 | 117 |
| Balls | 19160 | 3733 | 278 | 2419 |
| Runs | 10078 | 3562 | 400 | 3377 |
| Maidens | 641 | 29 | 0 | 6 |
| Wickets | 311 | 115 | 8 | 96 |
| Avg | 32.41 | 30.97 | 50.0 | 35.18 |
| Eco | 3.16 | 5.73 | 8.63 | 8.38 |
| SR | 61.61 | 32.46 | 34.75 | 25.2 |
| BBI | 7/74 | 4/34 | 2/34 | 5/12 |
| BBM | 10/108 | 4/34 | 2/34 | 5/12 |
| 4w | 10 | 6 | 0 | 0 |
| 5w | 11 | 0 | 0 | 1 |
| 10w | 1 | 0 | 0 | 0 |
ম্যাচ
| ম্যাচ | ফরম্যাট | ফলাফল | তারিখ |
|---|---|---|---|
| ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশ বনাম ভারত ১ম অনুশীলন ম্যাচ · India tour of West Indies Practice matches, 2016 | টেস্ট | ম্যাচ ড্র | ১০ জুলাই ২০১৬ |
| ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া চেয়ারম্যানস একাদশ বনাম ভারত অনুশীলন ম্যাচ ২ · India in Australia 2011, Practice Matches | টেস্ট | ম্যাচ ড্র | ২১ ডিসেম্বর ২০১১ |
| ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া চেয়ারম্যানস একাদশ বনাম ভারত অনুশীলন ম্যাচ ১ · India in Australia 2011, Practice Matches | টেস্ট | ম্যাচ ড্র | ১৬ ডিসেম্বর ২০১১ |
ক্যারিয়ার
ফরম্যাট অনুযায়ী ম্যাচ
ⓘ Debut and match counts reflect matches currently in our archive, which may not cover a player's entire career.
দল
রেকর্ড
| রেকর্ড | ফরম্যাট | র্যাঙ্ক | মান |
|---|---|---|---|
| Most wickets | টেস্ট | #36 | 311 |
